নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন
- Mar 26, 2026
- 54
আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে। সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। এ সময় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস-প্রাঙ্গণের প্রতীকী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। এরপর বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি ও সিএসই বিভাগ পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পাশাপাশি অস্থায়ী দুটি হলের পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
সকাল সাড়ে ৯টায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। এ পর্বে শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে গভীর আবেগের সঞ্চার করে।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভার শুরুতে বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ। এরপর আলোচনা করেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বজনীন গণযুদ্ধ, যেখানে এ দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের ত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই আমরা অর্জন করেছি এই স্বাধীন ভূখণ্ড। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই মহান মুক্তিযুদ্ধকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করে উপস্থাপনের প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে, যা এর সামগ্রিক চেতনার পরিপন্থী।” তিনি তাঁর আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধে নারীর অসামান্য অবদান বিশেষভাবে তুলে ধরেন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না-রাখার আহ্বান জানান।
পরবর্তীতে আলোচনা করেন মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম। তিনি বলেন, “স্বাধীনতা দিবস প্রতিটি দেশের জন্যই গৌরবের; বিশ্বের সর্বত্রই এটি জাতীয় দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হয়। তবে অন্য কোনো দেশে স্বাধীনতার জন্য এত রক্ত দিতে হয়নি। আমরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জন করেছি আমাদের স্বাধীনতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস এ জন্যই এক অনন্য দৃষ্টান্ত—যা অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত।” তিনি তাঁর আলোচনায় মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিরাজুল ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তাঁর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ছহীহ্ শাফি।
ড. সাদ্দাম হুসাইন
টিচার ইন চার্জ (জনসংযোগ দপ্তর) ও
সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়
